আমাদের সম্পর্কে

জন্ম লগ্ন থেকে বাস্তবতার হাত ধরে আর পাঁচটা মানুষের মতো স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে পথ চলা শুরু হয়। সমাজের কঠিন অধ্যায়ের পথ চলতে চলতে কত নারীর স্বপ্ন ঝরে যায়। থেমে যায় তার স্বাভাবিক বিকাশ। নীরব হয়ে পড়ে প্রতিভা। ধর্মীয় কুসংস্কার, সমাজ, পুরুষতান্ত্রিকতায় রুদ্ধ নারী। ইতিহাস থেকে আজ প্রত্যেকের সুবিধা অনুযায়ী নারীকে তারা ব্যবহার করেছে একটি নির্জীব উপাদান হিসেবে। তার মনন সত্ত্বাকে তেমন কেউ যৌবনের মত গুরুত্ব দেয়নি। একদল নারীর অধিকার আর স্বাধীনতার কথা বলে, নারীকে পণ্য বানানোর কৌশলী চক্রান্তে লিপ্ত। আর অপর দল ধর্মের দোহাই দিয়ে স্তম্ভিত করতে চায় নারীর সৃজনশীলতা, রুদ্ধ করতে চায় তার পথ।

বর্তমান ধর্মীয় নেতাদের ফতোয়া যদি ধর্ম হয়ে থাকে তাহলে মনে হয় সত্যিই ইসলাম নারীদের বঞ্চিত করেছে। কিন্তু বাস্তবিক বিষয় হলো, ইসলাম কোন অজ্ঞ ধর্মীয় নেতা বা পীরের উপর নির্ভরশীল নয়। এটি স্বতন্ত্র ধর্ম যার নিয়মাবলি নিয়ে রচিত হয়েছে কুরআন এবং হাদিস। কুরআন এবং হাদিসের আলোকে নারীর অধিকার কোন সংক্ষিপ্ত পরিসরে নয়। বরং তার ব্যাপ্তি সুদূরপ্রসারী এবং নিয়ন্ত্রিত।

কিন্তু আজ তথাকথিত নারীবাদী বুদ্ধিজীবী (!) ও অজ্ঞ ধর্মীয় নেতাদের দলাদলিতে গিনিপিগ হয় নারীরাই। সমাজে নারী সর্বস্তরে সমান অধিকারীনি। কিন্তু একটু ভিন্ন ভূমিকায় (উদা:- কোন নারী কখনোই পিতা হওয়ার দাবী জানাতে পারে না)।

সহস্র যুগ ধরে জমা হওয়া এই ব্যাথা, বেদনা, লজ্জা, অপমান প্রকাশ করার মত কোন মুখ ছিলোনা, ভাষা ছিলোনা। বা নিজেকে মূল্যায়ন করার মত সাহসিকতা ছিলোনা। রুদ্ধ নারীর মুক্ত কথা  হল আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস। যেখানে নারীরা তার সত্যিকারের অধিকার, স্বাধীনতা, ব্যাথা, বেদনা, দুঃখ প্রকাশ করতে পারবে তার সৃজনশীল সাহিত্য দিয়ে। উগরে দিতে পারবে রাজনৈতিক ও সাম্প্রতিক চলমান ঘটনাবলীর ওপর তার মূল্যবান মতামত। পরিচয় করিয়ে দিতে পারবে এই সমাজে তার গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা।

যেহেতু নারী ও পুরুষ প্রত্যেকে প্রত্যেকের ওপর সমান ভাবে নির্ভরশীল। তাই পুরুষরাও সামিল হতে পারে সঠিক ইসলামিক মূল্যবোধ নিয়ে রচিত তার সাহিত্য দিয়ে।

রঙিন হয়েছে আজ ধোঁয়াশা আকাশ
নরম নদীর পাড়ে ফুটেছে ফুল,
বিজয়ীনীরা ফেলে আসমানে নিঃশ্বাস
অধিকার বুঝে নেবে মাতৃকুল।