যোগীর রাজ্যে মারণরোগ

যোগীর রাজ্যে মারণরোগ

এইডস এর জীবাণু বহনকারী মারণরোগের থাবায় আক্রান্ত মানুষের জন্য চিন্তিত স্বাস্থ্য আধিকারিক। চিন্তিত মোদী সরকার যোগী। তিনি আচ্ছে দিনের ঢাকপিটানি সরকার। যেখানে স্বাভাবিক খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা,স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অভাব ,সে দেশ,সে সরকার আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখে কিরূপে? সে তো সোনার পাথর বাটির নামান্তর।

দেশ থেকে এইডস নির্মূল হওয়ার সংবাদটি যে ভূয়ো ছিল সেটা উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার স্বাস্থ্য শিবিরে মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রমাণিত।গত চব্বিশ, পঁচিশ ও সাতাশে জানুয়ারি প্রেমগঞ্জ,চকমিরপুরও বাঙ্গারমাউ স্বাস্থ্যশিবিরে ছয় শ জন মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় চল্লিশ জন মানুষের রক্তে এইডস জীবাণু বাসা বেধেছে দেখা যায় ।

উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিং এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: এস পি চৌধুরি জানিয়েছেন, এইডস রোগ ছড়ানোর পিছনে কোয়াক বা হাতুড়ে ডাক্তারদের কুকীর্তি। তারা একই সিরিঞ্জ বারংবার ব্যবহারের ফলে রোগটি ছড়িয়েছে বলে মনে করেন।এ জন্য সরকারি উদ্যোগে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। এই সংক্রামক ব্যাধি যাতে স্প্রেড না করে তারই উদ্যোগে ব্যস্ত।

আসলে এই মারণ ব্যাধির সঠিক কারণ নির্ণয় না হলে সেটা নির্মূলিকরণ ও সম্ভব নয়।
এইডস শব্দটি ইংরেজি চারটি শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। Acquired lmmune Deficiency syndrome -এই চারটি শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ AIDS । আর এই রোগ বহনকারী জীবাণুর নাম HIV । এটাও ইংরেজি তিনটি শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। Human Immunodeficiency Virus -শব্দগুলির সংক্ষিপ্ত রূপ HIV.এই ভাইরাস যেকোনো স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে ধ্বংস করে।যেমন-নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয় কিন্তু তার প্রতিষেধকের আর পথ থাকে না।আজও এর প্রতিষেধক আবিষ্কার হয় নি।ধীরে ধীরে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

এই সংক্রামক ব্যাধি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। কিন্তু এর মূল উৎস উদ্ঘাটন প্রয়োজন।আর সেটা হল অনিরাপদ যৌন মিলন। Sexually Transmitted Disease (STD)এবং Sexually Tranmitted infection (STI) এর মাধ্যমে এই দূরারোগ্য ব্যাধি মহামারী রূপে ধেয়ে আসে।

রোগ ব্যাধি আল্লাহ্ দিয়ে থাকেন।কিন্তু কোনো কোনো রোগ পাপের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে গযব রূপে আসে।এটাও সেই ঘাতক রোগ। ভারতেবর্ষে এই ব্যাধির শনাক্তকরণ হয় ঊনিশ শ ছিয়াশি সালে।

ফ্রিসেক্স বা বা অবাধ মেলামেশা বন্ধ করা, নিষিদ্ধ পল্লী বন্ধ করা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মানার মাধ্যমেই এই ব্যাধি দুর হওয়া সম্ভব। সমাজের বুকে মহিলা পুরুষের অবাধ মেলামেশার মধ্যে কোনও পাপবোধ মনে স্ট্রাইক করে না। অবাধে তারা কুকর্মে লিপ্ত হয়।এজন্য দেখা গেছে পঞ্চাশতাংশ পনেরো থেকে চব্বিশ বছরের তরুণ তরুণী এই রোগে আক্রান্ত।
এজন্য প্রয়োজন মুক্ত মনন। অর্থাৎ ব্যভিচার হতে মুক্ত মন। যা চোখ ও অন্তরকে হেফাজত করে। ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে এগুলো প্রয়োগ সম্ভব।

ইসলামেই আছে এর বিধান। আল্লাহতাআলা বলেন : “মুমিনদেরকে বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে। মুমিন নারীদেরকে বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং তাদের লজ্জা স্থান হেফাজত করে। তোমরা সবাই আল্লাহর সমীপে তওবা কর…সফলকাম
হবে।(সুরা -নূর :ত্রিশ-একত্রিশ)।
টিপস একমাত্র ইসলামই দিতে পারে ।চোদ্দ শ বছর আগে বৈজ্ঞানিক মুহাম্মদ (স:)দিয়ে গেছেন।

তাহলে AIDS এর মূল কারণ– ডাক্তার বা সিরিঞ্জের অপব্যবহার নয়।এটা বিস্তারের একটা মাধ্যম মাত্র। ডাক্তারের সিরিঞ্জের মাধ্যমে কেবল রোগের বিস্তার ঘটে। এই কারণে তো রোগের উৎপত্তি হয় না। এই রোগের উৎপত্তির জন্য সম্ভাবনাময় কারণগুলির মধ্যে অন্যতম কারণ হল অবাধ যৌনমিলন (ফ্রি সেক্স)।এজন্য নিষিদ্ধ পল্লি নিষিদ্ধ করণের প্রয়োজন।দিনের বেলার সাদা পোশাকের মানুষদের যদি এখানে রাতের আঁধারে অবাধ প্রবেশ ঘটে,তাহলে এইডস নিয়ন্ত্রণ হবে কিরূপে?

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় সামুদ জাতির ধ্বংস, রোম সাম্রাজ্যের ধ্বংস ব্যাভিচারের কারণে ঘটেছিল । আজ কেন সেটা হবে না ? ফাঁকা আওয়াজে এইডস নামক মারণরোগ বন্ধ হবে না।

ইসলামের পর্দার বিধানের গুরুত্ব, পর্দার প্রকৃত ধারণা এবং চেতনাকে যদি খুব বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় তবে এ মারণ ব্যাধি হতে সকলে বাঁচবে।

আসলে খোলনলচে পরিবর্তন করতে হবে।তবে তো সর্বরোগহরা হবে।বাইরের সাদা পোশাকের মানুষের মধ্যেই এই বিষটি লুকিয়ে আছে। তাকে বুঝতে আমাদের পালন করতে হবে ‘হিযাব দিবস’ (পহেলা ফেব্রুয়ারি )

হিযাব কি?এর গুরুত্ব কেন? এর উপকারিতা কি? উৎসাহপূর্ণ (Intensive ) বক্তৃতা ও সমাবেশের মাধ্যমে মহিলা -পুরুষ উভয়ের সচেতন হতে হবে।
•হিন্দু -মুসলিম জাতি ধর্ম নির্বিশেষে হিযাব এর নীতি মান্য করতে এগিয়ে আসতে হবে।
•অবাধ মেলামেশা বন্ধ করতে হবে।
•পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে মহিলাও পুরুষের হিযাব মেনে চলতে হবে।
•অশ্লীল গান, ছবি, সিনেমা বন্ধ করতে হবে।
•চোখের হেফাজত করতে হবে।
•আত্ম সংযমী হতে হবে।
•মদ ও নিষিদ্ধ পল্লি বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে।

সব মিলিয়ে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে তবেই ‘আচ্ছে দিনে” র মধ্যে একটি অন্তত সফলতা পেতে পারে।

সেরিনা বেগম

আপনার মতামত

avatar
  Subscribe  
Notify of