ইথিওপিয়ায় জাফর(রাঃ) ঐতিহাসিক ভাষণ

ইথিওপিয়ায় জাফর(রাঃ) ঐতিহাসিক ভাষণ

এক তরুণের হৃদয় গলানো ভাষণে খৃষ্টান বাদশাহ ইসলাম কবুল করলেন। সময়টা ছিল ৬১৫ খৃঃ। স্থান হাবশা।বর্তমান নাম ইথিওপিয়া। মক্কার কাফিররা অনেক উপঢৌকন নিয়ে খৃষ্টান সম্রাটের নিকট উপস্থিত হয়। একই সাথে মুসলমানদের বিরুদ্ধেঅভিযোগ ও করে। তারা পলায়নকারি মুসলমানদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়।

হাবসা সম্রাট মুসলমানদেরকে রাজদরবারে ডাকলেন। তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। এ বিষয়ে হযরত জাফর(রাঃ) সংক্ষিপ্ত ভাষণ  দান করলেন। তা ছিল এরূপ-
“সম্রাট! আমরা দীর্ঘ সময় অন্ধকার যুগ কাটিয়েছি।আমাদের অজ্ঞতা ও মূর্খতার অন্ত ছিল না।এক আল্লাহ্’র পরিবর্তে বহুসংখ্যক দেবদেবীর পূজা করতাম।ব্যভিচার, লুঠতরাজ, আত্মীয় বিচ্ছেদ, মৃত পশুর মাংস ভক্ষণ,লুঠতরাজ, আত্মীয় বিচ্ছেদ সম্বন্ধে কোনও জ্ঞানই ছিল না।ইনসাফ ও দয়ামায়া কি তা জানতাম না। হক-বাতিল,সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতাম না। সমাজের বুকে চলত জুলুম, অত্যাচার। এমন দুঃসময়ে আমাদের উপর আল্লাহ্ র অফুরন্ত রহমত বর্ষিত হল। প্রেরণ করলেন সৃষ্টিসেরা প্রিয় রাসূলকে। যিনি শত্রু -মিত্র নির্বিশেষে সততা, বিশ্বস্ততা ও নিষ্পাপতার সাক্ষী হয়ে এলেন।জাতি তাকে ‘মুহাম্মদুল আমীন’ উপাধিতে ভূষিত করলেন। তিনি এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ্’রপ্রতি আহ্বান করলেন। মূর্তিপূজা নিষেধ করলেন। ন্যায় ও সততা অবলম্বন করতে বললেন। হত্যাকাণ্ড, লুঠতরাজ, অত্যাচার,ব্যভিচার করতে নিষেধ করলেন। এতিমের সম্পত্তি গ্রাস করা হারাম ঘোষণা করলেন। সলাত প্রতিষ্ঠা করা ও দান সদকা করার নির্দেশ দিলেন। এভাবেই আমাদের জীবন থেকে দূর হল বর্বর পাশবিক যত অপশক্তি।নেমে এল নতুন আলোর বন্যা। সম্রাট! আজ আমারা তাকে অন্তর থেকে মেনে নিয়েছি। আমরা ঈমান এনেছি।এটাই আমাদের অপরাধ। আর এজন্যই মুশরিকরা আমাদেরকে ফিরিয়ে দিতে বলছে ।
তারা আমাদের পুরনো ধর্মে ফিরানোর জন্য সাধ্যমতো নির্যাতন করতে থাকে। এই চরম অত্যাচারের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে আপনার  দেশে আশ্রয় চাইছি।”
এর পর তিনি সুমধুর কণ্ঠে বিনয়ের সাথে সুরাহ ‘মারিয়ম’ এর আয়াত পাঠ করে শোনালেন। সম্রাটের দুই কপোলে অশ্রু বন্যা বয়ে গেল। কান্না জড়িত কন্ঠে বললেন- হাযরত ঈসা(আঃ) যে নাবীর কথা আগেই আমাদের জানিয়েছেন এ তো সেই মুহাম্মদ (সাঃ)।যার সৌভাগ্য লাভ করে আমি ধন্য হতে পেরেছি। এই বলে তিনি ঈমানের কলেমা পড়ে  নিলেন ।মুশরিকদের উপহার প্রত্যাখ্যান করলেন। তাদেরকে  দরবার হতে বিতাড়িত করলেন। মুসলমানদের নিরাপদ আশ্রয় দান করলেন।

 

–  সেরিনা বেগম

 

আপনার মতামত

avatar
  Subscribe  
Notify of