বিচক্ষণতা আপনার নিজের

হে ভূবন অধিপতি! মানুষ মানুষকে নিরাশ করে, আর পথ দেখান আপনি। এক পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে আর এক পথ খুলে যায়। শুধু তা জ্ঞানচক্ষু দিয়ে খুঁজে নিতে হয়। একশ্রেণীর মানুষ চিরকালই অকৃজ্ঞত, আপনার অশেষ নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে জানে না। একজাতের মানুষ চিরকালই স্বুম্মুম বুকমূন উম্ইয়ূন ফাহুম লা-ইয়ারজিউন। তারা বধির, বোবা ও অন্ধ সুতরাং তারা কখনই সরলপথে ফিরবে না, (সূরা বাকারার, আয়াত–১৮)। আর কিছু লোক তাদের এক্তিয়ারের স্পর্ধা ছেড়ে যায়, এরাই সমাজে ও সংসারে সর্বদা আশান্তির ফাটল ধরায়। এরা না পারে অন্যকে কিছু ভালো দিতে, না পারে অন্যের ভালোটা নিতে। এরা হিংসা, ঈর্ষায় জ্বলে খাঁক হয়ে যায়। যেকোনো মুহূর্তে আপনার সৎ উদ্যোগ কে ছোবল মারার চেষ্টায় আড় পেতে থাকে। এসব শকুনিমামা অর্থাৎ মরিচাধরা ব্রেনকে তোয়াক্কা না করাই শুভনীয় এবং মঙ্গলজনক।

কেননা আল্লাহর উপর গভীর তাওয়াক্কুল -এসব ভন্ডামিকে বানচাল করে দেয়। যুগে যুগে কত নমরুদ, ফেরাউন ও তাদের সাগরেদ চেলারা আসবে, তারজন‍্য আমাদের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ঈমানকে আরও দ‍ৃঢ় সংকল্পে মজবুত রাখতে হবে। যে দাম্ভীক এ আসুক না কেন, নারী বলে কেউ যদি তুচ্ছ-তাচ্ছিল‍্যের উপহাস,পরিহাস করে,বা যে কোনো ইসলামী আইনকে উপেক্ষা করে, তাকে অবিলম্বে ইসলামী আইনের দলিলে চক্ষুনিক্ষেপ করে দেওয়া উচিত। আর যদি ভাষা বুঝতে অক্ষম হয় বা বাঁকা লাইনে যায়, তাকে এড়িয়ে চলায় বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা যারা বুদ্ধিমান, সহজ ও সরল, তারা খুব সহজেই সহজ বিষয়টি বুঝে নিতে সক্ষম।সেটা তাদের চরিত্র ও কথার মধ্যেই ধরা পড়ে যাবে যে তার মধ্যে সংকীর্ণতা লুকিয়ে আছে কিনা। সে অভাগা যে কত নগন‍্য ও নীচ তাতে তার ভাষা ও ব‍্যবহারে বোঝা যায়।

তাই ভালো মন্দের বিবেচ‍্য ক্ষমতা আমাদের প্রত‍্যেকের মধ্যে বিরাজ করে। যদি আপনি মহান আল্লাহ্ পিয়ারি হন তাহলে তো কোনো কথায় নয়, নির্দ্বিধায় আপনি আপনার বিচক্ষণতার অংশীদারি হতে পারেন। কিন্তু এই সৃষ্টি জগতের মালিককে এড়িয়ে কখনোই আপনি বিচক্ষণতার সমাজদার হতে পারেন না। যারা স্রষ্টাকে এড়িয়ে দুনিয়াতে সামান‍্য ভালো ও ন‍্যায়বাদীতা দেখান,– সেটা খুব সাময়িক। এর ফল আখিরাতে কখনোই ভালো হবে না। আর স্রষ্টাকে এড়িয়ে অনেক বীরেরা তাদের বীরত্ব সারা জীবন দেখিয়েছেন, শেষে জীবনের কূল-কিনারা খুঁজে না পেয়ে শেষে ইসলামের ছাতায় আশ্রয় নিয়েছেন। এরকম অগণিত দেশী-বিদেশী দার্শনিক, লেখক, কবি, সাংবাদিক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ আছেন, যা আজও ইতিহাস সাক্ষ্য বহন করে। এই মনীষীরা ইসলাম ও স্রষ্টাকে নিয়ে কে কি বলেছেন –তা আমি আমার “জ্ঞান সাগরে ক্ষণিকের ভ্রমণ ” এ পরপর সাজিয়ে বিস্তারিত লিখেছি, যা এর একটা বৃহত্তর রূপ দেওয়ার চেষ্টায় আছি। কাজেই সময় থাকতেই বুদ্ধিমানরা এ পৃথিবীতে তাদের বুদ্ধিদীপ্তের বিকাশের সমাপ্তি ঘটিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় থাকেন। আর যে বুদ্ধিমানরা দুনিয়াটাকেই সর্বেসর্বা মনে করেন, নিশ্চয় তারা শয়তান দ্বারা প্ররোচিত এবং আখেরাতে ক্ষতির দিকে এগিয়ে আছে। দুনিয়াতে এরা যেভাবেই থাকুক না, সবকিছুর চুলচেরা হিসাব হবে। কিছু মানুষ পেটের সামান্য দানা যোগাতে হিসেব করতে হিমসিম খেয়ে যায়, আর যিনি আমাদের দুনিয়াতে অশেষ নেয়ামত ও রহমত দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার কোনো হিসেব হবে না, মৃত্যুর পর সব শেষ —এই ভ্রান্ত ধারনায় সমগ্র মানবকুল যদি ডুবে থাকত, তাহলে কবেই মানুষ মানুষকে ছিঁড়ে খেত। (নাউজুবিল্লাহ ), কবে পৃথিবী ধ্বংসাত্বকে পরিণত হয়ে শেষ হয়ে যেত।

সবশেষে একটাই কথা বলা যায় —যারা মহান আল্লাহর তুষ্টিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে এতটুকু কুন্ঠাবোধ করে না, একবুক প্রেম ও ভরসা নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে অন্বেষন করবে। ইহকালের কর্ম জীবন ও পরকালের আখেরাতের প্রস্তুতি তাকে ব‍্যতিব‍্যস্ত করে তুলবে। ইহায় একটা পরিপূর্ণ জীবনের উদ্দেশ্য তাকে তার সবপ্রশ্নের শেষ উত্তর এখানেই মিলে যাবে। সেই সত‍্যিকারের চির সফলকামী বিচক্ষণবাদী।

আপনার মতামত

avatar
  Subscribe  
Notify of