হতাশার বুকে কোভিড-১৯

আমি তোমাদের মা বলছি! হুম ২০২০এর বিশ্বনিখিলের মা বলছি । আমি ভালো আছি। আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশি ভালো। আমার কথাগুলো তোমাদের কর্ণ কুহরে প্রবেশ করুক। কতদিন কেঁদে চলেছি। বিশ্বের সব সন্তান তা দেখতে পাইনি। আজ সবার হৃদয়ের সোনাঝরা ক্রন্দনে খুবই খুশি আমি।

হুম কান্নায় নাকি সোনাঝরে?
বটেই! অশ্রু নদীতে সব সন্তানের চোখের জল যে মিশে গেছে তাই
বেদনা ভরা হাসি ফুটেছে মায়ের মুখে।

চীনের উহান শহর থেকে ৭ই জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। সেখানে বানর, বাদুড়, শিয়াল, কুকুর ইত্যাদির মাংসের বাজার হয়। তা থেকে নাকি ছড়িয়েছে এ ভাইরাস। তারপর ছড়িয়েছে সমগ্র ইউরোপ। আজ সমগ্র বিশ্বের মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। লাখো সন্তানের প্রাণ চলে যাচ্ছে। তবুও আমার মনে শান্তি বিরাজ করছে। বিশ্ব তো শান্তির বিছানা পেতে দিয়েছে।

হুম, covid-19 আরো কিছুদিন বিরাজ করুক। পবিত্র হোক নিখিল বিশ্ব। দেখছনা আজ নিপীড়ন, নির্যাতন, গুলি, বোমা, বারুদ, কালোবাজারি, অশ্লীলতা, নেশার বাজার সবই বন্ধ । বন্ধ হয়েছে দেখে দেখে মুসলিম নিধন !

দেখছনা প্রতি ১০০বছর পর পর এই মহামারী কী বেগে আছড়িয়ে পড়ে? নিয়ে যায় কোটি কোটি প্রাণ?
কেন? কেন? কেন?
কে হরণ করে বলো?
কোন সে শক্তি?
১৭২০, ১৮২০,১৯২০ সালে প্রতি ১০০ বছর পর পর কেন এসেছে প্লেগ, কলেরা, স্প্যনিশ ফ্লুর মতো মারণ ব্যাধি? হারিয়ে গেছে কোটি কোটি প্রাণ! কে ছড়ায়? তার উত্তর নেই।

কিন্তু যখন নাফ নদীর জল রক্ত রঞ্জিত হয়? আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, মায়ানমারের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ভস্মীভূত হয়? নারী ধর্ষণ করে ইজ্জত নষ্ট করে পুড়িয়ে দেয়া হয়? যখন আমার সন্তানদের মুসলিম বলে চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়? তখন আমার হৃদয় পিঞ্জর খান খান হয়ে যায়।

এবার ২০২০সালে এলো করোনা ভাইরাসের মহামারী!
হুম মহামারীর মহাসঙ্কট!
আরশের অধিপতি দেখছেন। তিনিই তো এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির মালিক। পবিত্র কুরআনে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সাতবার বলেছেন
তিনি আরশে আযীমে অধিষ্ঠিত হয়ে আছেন। পবিত্র কুরআনে সূরা ইউনূস, সূরা র’দ, সূরা ত্বহা, সূরা ফুরকন, সূরা সিজদা ও সূরা হাদীদে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন-
“এর পর স্বীয় আসনের উপর আসীন হয়েছেন।”
(আল আ’রফ-৫৪)
এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েননি। পরিচালনার দায়িত্বও কারো উপর অর্পণ করেননি।
শোনো আমার সন্তানরা আমার প্রভু তিনি-প্রতিপালক, নিয়ন্ত্রক, ব্যবস্থাপক, পরিচালক, পর্যবেক্ষক, সমস্ত সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণকারী, আবেদন শ্রবণকারী, দু’আ কবুলকারী এবং সমস্ত সৃষ্টির প্রয়োজনীয় আইন-কানুন ও বিধান দানকারী।
সেই মহান রব তাঁর দয়ামায়ার ৯৯ভাগ নিজের কাছে জমিয়ে রেখেছেন আর একভাগ সারা নিখিলে বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি কতই না দয়ালু!
সেই নিখিল বিশ্ব যখন অশান্ত সময়ে দিন কাটাচ্ছিল। খুন, যখম,
বোমা, বারুদের গন্ধে চারপাশ অতিষ্ঠ!
এমনি এক অশান্ত সময়ে করোনা ভাইরাস দুঃখভারাক্রান্তের শরীরে শান্ত প্রলেপ বুলিয়ে দিয়ে বলল-
তোমার সন্তানেরা আজ হিংসা বিদ্বেষ ভুলে পরিচ্ছন্ন দেহমন নিয়ে
কিছু সময় নির্জন দিবস পালন করুক!
রেড, অরেঞ্জ, গ্রীন জোনে বিভাজনের মাধ্যমে জীবনের গল্পে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে শূন্য প্রাণে দিন যাপন করুক।
ঘরে অবস্থান করুক, আর প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুক-
“হে রব তোমার নূরের অসিলা দিয়ে তোমার নিকট আশ্রয় চাইছি যে তুমি তোমার গজব নাখুশি থেকে রক্ষা করো।”

এই সংসার সমুদ্র মাঝে দুঃখ তরঙ্গের খেলাতে আশার প্রদীপ হয় ভেলা।
শান্ত সময়ে পাল তুলে মুমিন জীবন তরী বেয়ে যাবে।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
“মুমিনের জীবন আশা নিরাশার দোলায় দোলায়িত।”

‘২০২০এর মা’-আমি ভালো আছি। আমার সব সন্তানরা এখনকার মতো হিংসা বিদ্বেষ, হিংস্রতা ভুলে গেছে।
আমি বিশ্বনিখিলের মা……!
ভালো আছি……!

আপনার মতামত

avatar
  Subscribe  
Notify of