আমাদের জন্য দুনিয়াদারী না আখিরাত কাম্য?

“সকল সময় আল্লাহ্তায়ালার ধ‍্যান রাখাই র্সবশ্রেষ্ঠ ইবাদত।” [হযরত ইবনে আতা(রহ)]

“আল্লাহর ইবাদতে যে স্বাদ আছে, তেমন আর দুনিয়ার অন্য কোনও বস্ততেই নেই।” [হযরত শাহ্ শুজা কিরমানি(রহ)]

অথচ কি আশ্চর্য! শ্রেষ্ঠ আইনগুলির সাথে আমাদের ভাবনার ফারাক। বড়ই অদ্ভুত আমাদের কামনা,বাসনা, র্কম আর জীবনের ভিন্ন ভিন্ন অভ‍্যেসগুলি। এখন জীবন মানেই কাজ খুঁজে উদর পুরোনো। অর্থ কামাই, রোজগার আরো চাই, আরো চাই, আত্মাকে তুষ্ট করতে সদা ব‍্যস্ত। জীবনের তাগিদে রোজগারের প্রয়োজন অবশ্যই আছে।

হজরত মুহাম্মদ (দঃ) শ্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন ——“সৎভাবে জীবিকা অর্জন করা অন্যতম ফরজ।” (বয়হাকী) আবার,

“কোন আত্মাই তার জীবিকা শেষ না হওয়া র্পযন্ত মরে না। অতএব তোমরা আল্লাহ্ কে ভয় কর এবং জীবিকা অন্বেষণের নিমিত্ত চেষ্টা কর এবং উহা পাইতে বিলম্ব হইলে আল্লাহ্ র অবাধ‍্য হইও না।” (বয়হাকী)

কিন্ত এতকিছু মহা আইন থাকার পরেও অতিরিক্ত কামনা, বাসনা, লোভ-লালসা, একরাশ অবজ্ঞা অবহেলা ও দারিদ্রতার মত চরম অভিশাপ কখনো কখনো মানুষকে চরম ভুল পথে চালিত করে। সবকিছুর জন‍্য আমরা স্বার্থান্বেসী মানুষরাই দায়ী, এই দায় কখনোই স্রষ্টার উপর অর্পণ করা যায় না। এই হিসেব মানুষের মস্তিষ্কে অনেক গড়বড় আছে। আমরা নামধারী অনেক মুসলিম আল্লাহ্ র ইবাদত করি, কিন্তু মুমিন হতে পেরেছি কিনা, সে নিয়ে নিজেকে তলাশ করা প্রয়োজন বোধ করি না। বিলাস বহুল জীবন, কমল কচিকাঁচাদের নিয়ে আধুনিক দুনিয়াদারী শিক্ষায় ঘরে ঘরে মানুষের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, র্জজ, ব‍্যারিষ্টার অথবা আই. পি. এস. অফিসার হতে হবে। পার্থিব জীবনে মানুষ আচ্ছাদিত হয়ে পড়ছে। আজকের সভ‍্যতায় র্ধম র্কম ওসব সেকেলে, ফ‍্যাসানধারীদের মুখে অলিতে গলিতে একই মূর্খ মন্ত্র। অথবা, নিজের মনগড়া র্ধমের আইন তৈরি করে মহান আল্লাহ্ র আইনের সীমাকে লঙ্ঘন করে পাপের আমলনামা ভারী করে, এই ধ্বংসাত্বক ত্রাস চলছে বিশ্ববাসীর কিছু ভন্ডদের খেয়ালিপনায়। একমাএ বুদ্ধিমানদের মাথায় সত্য বিচ্ছুরিত হয়। সদা র্সবদা এরা নিজের অস্তিত্বকে নিয়ে সজাগ থাকে। তাই মুমিন সবসময় নিজেকে আল্লাহ্ র ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে রাখতে চায়। তার জীবনের সব চাওয়া পাওয়া হয় একমাত্র আল্লাহ্ র উদ্দ‍্যেশ‍্যে। আজ আমাদের সাধারণ মুসলিমদের অবস্থান কোথায়, তা হাদীস শরীফের দলিল থেকে হিসেব মিলে যায় ——
“মানুষ যে র্পযন্ত দুনিয়ার ধান্দায় মশগুল থাকে, সে র্পযন্ত আল্লাহ্ র দরবারে পৌছতে পারে না। [হজরত খাজা কুতুবুদ্দিন বখতিয় কাকি(রহ)]

অথচ মুমিনের পরিচয়ে কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে ——–“তারা তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহ্ র প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা,অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহ্ র নির্ধারিত সীমারেখা হিফাজতকারী। আর মুমিনদের তুমি সুসংবাদ দাও।” (সূরা তাওবা : ১১২)

“মুমিন তো তারাই যাদের সামনে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে তাদের অন্তর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আর যখন আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেয়ে যায়।” (সুরা আনফাল: ২)

মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয়েছে আখিরাত। এই দিনটিকে কূরআনের ভাষায় বিভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও আখেরাত দিবস, কোথাও বিচার দিবস, কোথাও মহান দিবস, কোথাও কিয়ামত দিবস, মহাপ্রলয় দিবস ইত্যাদি।

মহান আল্লাহ্ যিনি জীবন- মরণের একমাত্র মালিক। তিনি সৎকর্ম শীলদেরকে পুরস্কৃত করার জন্য এবং সীমা লঙ্ঘনকারীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সমস্ত মাখলুকের মুত‍্যু ও পুনরুথ্থান অবধারিত করেছেন।

ইহা সত‍্য যে, মানবজাতির চলার গতি একদিন থেমে যাবে। একদল আসছে,অন‍্যদল বিদায় নিচ্ছে। মানবজাতির এই বিস্ময়কর আগমন-প্রস্থানকে সমুদের ঢেউ এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। এক ঝাঁক ঢেউ সমদ্র সৈকতে এসে শেষ হয়। পরক্ষণেই তার পিছু ধরে আরেকপ্রবাহ ঢেউ আগমন করে এবং তীরে এসে শেষ হয়। বাস্তবিকই মানুষের জীবনের গতিশীলতা এহেন অস্বীকার করার কিছু নেই।

এখানেই শেষ নয়, একদিন প‍‍ৃথিবী যখন ধ্বংস হয়ে যাবে, সমস্ত মানুষ নি:শেষ হয়ে যাবে, বরং এটি মানবজাতির একস্থান থেকে অন্য স্থানে গমনমাত্র। অচিরেই এমন একদিন আসবে যেদিন আমরা সবাই নতুন এক জগতে ফিরে যাব। যেখানে মানবজাতির দুনিয়ার সকল কাজের হিসাব নেয়া হবে। “#আল্লাহ তাআলা বলেন———–

“আর তোমরা সেই দিনকে ভয় কর, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহ্ র দরবারে উপস্থিত করা হবে। তখন যে যা অর্জন করেছে তা সম্পূর্ণ রুপে প্রদত্ত হবে। আর তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র যুলুম করা হবে না।” [সূরা বাকারা: ২৮১]

তাই সকল মুসলিম ভাই ও বোনদের জেগে ওঠার আন্তরিক করুণ নিবেদন রইল। মানুষ হল অভ‍্যেস এর দাস, যেভাবে জীবনকে পরিচালিত করবেন সেভাবেই এগোবে, অবশ‍্য আপনি যদি আপনার কূ-প্রবৃত্তির গোলাম হতে না চান। মহান আল্লাহ্ র প্রতি নিগূঢ় বিশ্বাস আর ভয় আমাদেরকে সঠিক পথে পৌঁছে দিতে পারে।

তাই বলা হয়েছে —–“যে আল্লাহকে ভয় করে, তাকে সবাই ভয় করে, আর যে আল্লাহ্কে ভয় করে না, কেউ তাকে ভয় করে না।”——–[হযরত ফজিল ইবনে আয়াজ(রহ) ]

কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং আখেরাতের শাস্তি কিংবা নেয়ামতের উপর বিশ্বাসই মানুষকে সকলপ্রকার কল‍্যাণের পথে নিয়ে যায় এবং সকল অন‍্যায় পথ হতে বিরত রাখে। কাজেই হাদীস শরীফে বলা হয়েছে ———–

“আখিরাতের কাজ আজই সমাধান কর এবং দুনিয়ার কাজ আগামীকালের জন্য রেখে দাও।” [হযরত শেখ আহমেদ মুজাদ্দিদে আলফেসানি(রহ)]

আপনার মতামত

avatar
  Subscribe  
Notify of