অনুতাপ

জ্ঞাত- অজ্ঞাত সারে কত পাপ ধরে রাশি রাশি,
স্মৃতি- বিস্মৃতির ঘাটে তরঙ্গ প্রবাহে অকূলে যায় ভাসি।
বিনম্র স্নিগ্ধ হাস‍্যের যে স্বচ্ছ সরলতায় নিবিড় আলস‍্যে,
শব্দহীন শুষ্ক পত্রে ঘূর্ণবেগে অকস্মাৎ শূন‍্যে ধেয়ে আসে।

জীবন কত সংকটের বেড়ীজালে ঘেরা,মহামারী,সাইক্লোনের প্রকোপ
একে একে পসরা সাঁজায় ঘনায় বর্ষন কি দারুণ সন্তোপ।
আকুল বেদনাভরে এত দুঃখে পাপ নাহি গেল দুরে,
বুদ্ বুদ্ শিখা নিভে যাতনার দীপে ভগ্ন হৃদয় থরে থরে।

ধরণীর সূদীর্ঘ যাত্রাপথে মেতেছে সুখ-দুঃখের প্রাণের খেলায়,
কখনো অশান্ত নিশীথরাত্রে, কখনো শ্রান্ত দিনান্ত বেলায়।
হারিয়ে যাওয়া ভালোগুলি স্মৃতিপটে চিত্র এঁকে এঁকে যায়,
ভুলি নাই কভু,ইসলামী আলোর মর্মবানী সদা প্রস্ফুটিত রয়।

বার বার ভুল অনুতাপের কুজ্ঝটিকা হৃদয় গহনে দোলে,
মেঘভরা বৃষ্টিঝরা দিনে নব বসন্ত ফুল ও ফলে।
ঘটনার স্মৃতিগুলি মানসপটে যে ছবি এঁকে এঁকে যায়,
বিবেক কতবার অনুশোচনার আগুনে ঝলসিয়ে দগ্ধভূত প্রায়।

ক্ষমা করো গাফ্ফারু! ক্ষমা করো কাহ্হারু! বিবেক দীর্ণ শূলে,
দীপ্ত শিরে জাগ্রত ,দংশীভূত অশান্ত প্রাণে কত অশ্রু ভুলে।
শূন‍্য মরুপথ দিক্ হতে দিগন্তে জোয়ার আসে যে বন‍্যা সাগরে,
অজানা যাত্রায় দিশাহারা বাতাসে সফল করো নবীন প্রভাতে।

দাও মালিক! সুস্নিগ্ধ শ‍্যামল ছায়ায় বিপুল বিশ্বকে ভরে,
পাপ গ্লানি সব মুছে পূণ‍্যের নব নব পুস্পরাজি প্রস্ফুটে।
নীরব ক্লেশের ধিকিধিকি তাপে করুণ ছল ছল আঁখি,
মুখ ফিরিয়ো না প্রভু! ক্ষমা কর মানবেরে, লুটাইয়া পড়ে থাকি।

আপনার মতামত

avatar
  Subscribe  
Notify of