সবার উপরে নয়, জীবের সেরা মানুষ সত‍্য / মানুষ কেন সৃষ্টির সেরা?

‘সবার উপরে মানুষ সত্য ‘—-এ বানীতে স্বয়ং স্রষ্টাকে অবমাননা করা হয়।কাজেই বলা হয় “সৃষ্টির সেরা মানুষ সত‍্য”। মানুষ ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা। নির্দোষ ও পবিত্র।

আল্লাহ্ যেহেতু আদম আ. কে নিজের ‘ইলম’ গুন প্রকাশের পূর্ণাঙ্গ ক্ষেত্র হিসাবে সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং তিনিই পৃথিবীতে আল্লাহ্ র প্রতিনিধিত্ব করার অধিকারী ; ফেরেশতারা তাঁর অধিকারী নয়। মহান আল্লাহ্ র প্রতিনিধিত্ব করা ইলম-জ্ঞান নামক গুনের ওপর নির্ভরশীল।

মুক্ত জ্ঞান এবং পৃথিবীতে তাঁর ইচ্ছার স্বাধীনতাই তাকে সমগ্র সৃষ্টির উপর প্রভুত্ব দান করেছে। এই জ্ঞান শক্তির কারণেই মানুষকে বলা হয় ‘আশরাফুল মাখলুকাত’। ——–(সূত্রঃ ইবনে কাসির, )

#মহান_আল্লাহ_তাআলা_ইরশাদ_করেন—–“অবশ‍্যই আমি আদম সন্তান দের সন্মানিত করেছি এবং তাদের পানিতে ও স্থলে প্রতিষ্ঠিত করেছি, তাদের উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদের অনেক সৃষ্টির ওপর শ্রষ্ঠত্ব দান করেছি।”—(সূরাঃ ইসরাইল; ৭০)

মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মুলে রয়েছে তার চিন্তাশক্তি, বিবেক, ইচ্ছাশক্তি আর প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। সৃষ্টিজগতে মানুষের এই গুনগুলি আছে বলেই জীবকুলের মধ্যে মানুষ ব‍্যতিক্রমী সৃষ্টি। একমাত্র তারই ক্ষমতা আছে নিজস্ব গন্ডির বাইরে যাওয়ার ; মহান রাব্বুল আল আমীন মানুষ কে স্বাধীনভাবে ভাববার অবকাশ দিয়েছেন। যার কারণে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অসীম সম্ভাবনা আর সীমাহীন বৈচিত্র্য। মানুষ ছাড়া আর কাউকে ,এমনকি ফেরেশতা বা শয়তানকে ও দেওয়া হয় নি।

এককথায়, নিজের বিবেক -বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে জীবন চলার পথে মহান আল্লাহ্ ও নবীর (সাঃ) আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষ হওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে নিতে হবে।

মানুষ বিবেক-সম্পন্ন এক বুদ্ধিমান জীব। এই বিশেষত্ব মানুষকে অন‍্য সমগ্র জীবের থেকে পৃথক করে রেখেছে। #মহানবী_সাল্লাল্লাহ_আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন———-“আল্লাহ্ বিবেক এবং বুদ্ধির চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছূ সৃষ্টি করেননি।”

জ্ঞান ও বিবেচনা শক্তির সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে বুদ্ধির স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। যাতে তার জীবনের চলার সঠিক পথ বেছে নিয়ে আল্লাহ্ র প্রতিনিধিরুপে নিজের পরিচয়কে ঠিক রাখতে পারে। নইলে নিম্ন শ্রেণির জীব ও পশুপাখি থেকে আলাদা করে চেনা যেত না। তাই সৃষ্টির সেরা হয়ে স্রষ্টাকে অস্বীকার করা বা এড়িয়ে চলা মানুষের দায়িত্ব কখনো এত ঠুনকো হতে পারে না। আর তখনই মানুষ অকৃতজ্ঞতায় পরিণত হয়।

#_পবিত্র_কুরআনে_ইরশাদ_হয়েছে————“তাদের অন্তর রয়েছে অথচ তারা তা দ্বারা উপলব্দি করে না।” ( সূরাঃ- আরাফ, আয়াতঃ ১৭৯}

শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে নিছক বিবেক নয়; বরং সুষ্ঠু বিবেকই বিবেচ‍্য। সুতরাং বিবেকের সুষ্ট ব‍্যবহার হল ভালো বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা ও বাস্তবায়ন করা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ র সৃষ্টি জগৎ নিয়ে গবেষণা করা।
যেহেতু সূরা মুলক্ 2 নং আয়াতে বলা হয়েছে ———“#যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে,— কে তোমাদের মধ্যে র্কমে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।”

পবিত্র কুরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তাভাবনা করা, এ প্রসঙ্গে #মহান_আল্লাহ_বলেন———“তারা কি কুরআন সম্পর্কে মনোযোগসহ চিন্তাভাবনা করে না, নাকি তাদের অন্তর তালাবন্ধ।” [সূরাঃ মুহাম্মদ ; আয়াতঃ ২৪]

উল্লিখিত আয়াতে চিন্তাভাবনার সম্পর্ক অন্তরের সাথে করা হয়েছে এবং স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে মহান আল্লাহ্ র সৃষ্টিজগৎ ও পবিত্র কুরআনের গবেষণার মধ্যে সুষ্ট বিবেকবানদের জন্য চিন্তার খোরাক রয়েছে।

#_ফ্রান্সের গবেষক ডঃ মরিস বুকাইলি তাঁর “আল-কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান” গ্রন্থে বলেছেন ————“#প্রতিটি_মানুষের জন্যই আল্লাহর অপার প্রেম ও দয়ার পথ উন্মুক্ত রয়েছে। সেই সঠিক পথ চিনে নেওয়ার জন্য মানুষকে অন্ধকারে ছেড়ে দেওয়া হয় নি। কেবলমাত্র একটু চেষ্টা বা পরিশ্রম করলেই অর্থাৎ নিজেদের পাপ এবং ভুলত্রুটি কে সংশোধন করার চেষ্টা করলেই সে পথের সন্ধান লাভ সম্ভব। ভাবনা-চিন্তা করার ক্ষমতা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ্ র পক্ষ থেকে আমাদের আল্লাহ্ র পথের দিশাও দেখানো হয়েছে,—–যা আমাদের কাছে সত্য ও জ্ঞানের সিদ্ধান্ত প্রকট করে এবং ইহকাল ও পরকালেরও আমাদের অস্তিত্বের যথার্থতা বিষয়ে সঠিক আলোর সন্ধান দেয়।

সত্যের সন্ধানে মানুষকে নিজেই ব্রতী হতে হবে এবং নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এই প্রকাশ‍্য সত্যের প্রতি আপনি কী নীতি অবলম্বন করবেন।

যখন মানবজাতি অন্ধকার যুগের গহ্বরে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছিল,তখন আল্লাহ্ তাঁর শেষ বানীবাহক পয়গম্বর হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) মনুষ‍্যত্ব ও মানবতা উদ্ধারের জন্য পৃথিবীতে পাঠালেন। তিনি মানবজাতির জন্য র্সবশেষ ও চিরস্থায়ী পথ প্রদর্শক।

তাই অনেক দার্শনিক ও চিন্তাবিদ স্বীকার করেন যে হজরত মুহাম্মদ( দঃ) ছিলেন বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্ধী সমাজ বিজ্ঞানী।

His creed is equally suited to the despotism of Russia and to the democracy of the United States.It necessarily connotes the existence of a Universal empire

অর্থাৎ তাঁরই র্ধমনীতি রাশিয়ার স্বৈরতন্ত্রে ও আমেরিকার গনতন্ত্রে সমানভাবে প্রযোজ‍্য। বস্তুতপক্ষে ইহা একটি বিশ্বজনীন সাম্রাজ্যের অস্তিত্বের সর্মথক।

বিখ্যাত দার্শনিক #আলফ্রেড_মার্টিন তার——” The Great Religious Teacher of the East” পুস্তকে বলেছেন ঃ
“হজরত মুহাম্মদ (দঃ) যে বিপ্লবী প্রচেষ্টায় আরবে সমাজব‍্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে তাঁর দৃষ্টান্ত বিরল।”

শ্রেষ্ঠ দার্শনিক #র্জজ বার্নাড শ’ দুঃখ করে বলেছেন——“I believe if a man like Mohammad were to assume the dictatorship of modern world, he would succed in solving its problem in a way that would bring its much needed peace and happiness”.

অর্থাৎ “আমি বিশ্বাস করি মুহাম্মদ (দঃ) এর মত একজন লোক এই আধুনিক বিশ্বের একনায়কত্ব গ্রহণ করতেন তবে এই জটিল সমস্যার এমন সুন্দর সমাধান করতেন, যা এনে দিত আমাদের প্রয়োজনীয় সুখ ও শান্তি।”

লেখক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম তার “বৈজ্ঞানিক মুহাম্মদ( দঃ)”—প্রথম খন্ডে বলেছেন——–“#সমগ্র_দুনিয়াকে_এক_হাতে_নিয়ে–এক শাসন,এক চিন্তা ও এক মন্ত্রে দীক্ষিত করবার ক্ষমতা হজরত মুহাম্মদ( দঃ) ছাড়া আর কেঊ করতে পারে নি। শান্তির পথে, সবার সাথে সবার হাত মিলিয়ে দেবার এমন কৌশল কেউ শেখেনি।

মানুষ যে এত ক্ষমতার অধিকারী তা তারা জানত না। মানুষ যে কত শক্তিশালী, বুদ্ধিমান ও সৃষ্টির সেরা জীব, মানুষ যে নিজ আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ইহকাল ও পরকালের নেতা হতে পারে, এ বিশ্বাস,এ ধারনা দিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (দঃ)। তাঁর উদাত্ত কন্ঠে ঘোষণা ছিল ————-“#হে_মানুষ_তুমি_ছোট_নও, ঘৃণ্য নও, অস্পৃশ‍্য নও—–তুমি মহান। তুমি শক্তিমান। চন্দ্র,সূর্য, আকাশ -বাতাস, মেঘ-বিচ‍্যুত, পাহাড় -নদী, তরুলতা সমস্তই তোমার ভৃত্য, তোমার সেবায় তারা নিয়োজিত। আল্লাহর নিচেই তোমার আসন, তুমি কেন অন্য কাহারো নিকট নতশীর হইবে।” (হাদিসঃ সংগৃহীত বিশ্বনবী গোলাম মোস্তফা।)

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ( দঃ) মানুষকে যাতে প্রেমের ডোরে বাঁধা
যায়, তিনি ঘোষণা করলেন———“#আল্লাহর_প্রতি_বিশ্বাস_করার_পর_মানুষকে_ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানের পরিচায়ক।” (সগির)

সৃষ্টি জগতে মানুষ যে সেরা,এ সত‍্যকে অস্বীকার করার কিছু নেই। একমাত্র বিকারগ্রস্তরাই সত‍্যকে নিয়েই সবসময় বিভ্রান্তে ফেলার চেষ্টায় থাকে। মানুষ পৃথিবীর দায়িত্বশীল, মহান আল্লাহ্ সৃষ্টিকুলের সবকিছু মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন, করেছেন মানুষের অনুগত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তাআলা বলেন——-“#মহান_আল্লাহ_সেই_সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।” [সূরাঃ বাকারাঃ ২৯]

সুতরাং আল্লাহ্ র প্রদত্ত এই অধিকার যথাযথভাবে ব‍্যবহারের মাধ্যমে পৃথিবীর সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের অন‍্যতম বৈশিষ্ট্য। আর যারা এই দায়িত্বের অবহেলা করে, বিরূপ মন্তব্য পোষণ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পৃথিবীর সুন্দর পরিবেশকে কলুষিত করে, তারাই মানবতার বড় শত্রু। পশুর চেয়ে ও জঘন্য। “#মহান_আল্লাহ_বলেন——–“আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে। অতঃপর তাকে নামিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।” [সূরাঃ আত ত্বীনঃ ৪-৫]

#কিন্ত_তারা_নয়_যারা_বিশ্বাস_স্থাপন_করেছে ও সৎর্কম করেছে,তাদের জন্য রয়েছে অশেষ পুরস্কার।” [ সূরাঃ আত ত্বীনঃ ৬]

বতর্মান যুগেও কিছু মুসলিম রয়েছে,যারা নিজ নিজ মনের খায়েশের গোলাম,প্রবৃত্তির পূজারী। এরা আল্লাহর র্সবশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও এরা যে কতটা নিকৃষ্ট সে সম্পর্কে #মহান_আল্লাহ_বলেন ঃ

“#আপনি_কি_তাকে_দেখেন না,যে তারা মনের কু-প্রবৃত্তিকে উপাস‍্য রূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি দায়িত্ব নিবেন? আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুস্পদ জন্তুর মতো বরং তার চেয়ে ও নিকৃষ্ট।” [সূরাঃ আল-ফুরকানঃ ৪৩-৪৪]

কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ এদের সেই নিকৃষ্ট স্থানে নামিয়ে দেবেন। আর মহান আল্লাহ্ র কথায় কখনো নড়চড় হয় না।

#আল্লাহ্ বলেন—-“অতঃপর কেন তুমি কেয়ামতের প্রতিফলকে অবিশ্বাস করছ? আল্লাহ্ কি বিচারকগনের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন? [সূরাঃ আত ত্বীন-৭-৮]
যারা মহান আল্লাহ্ ও তাঁর প্রেরিত রসুলকে (সা:) অবিশ্বাস করে, কটু মন্তব্য করে এর থেকে অজ্ঞ হতভাগা আর কে হতে পারে। তাই তিনি জ্ঞানান্বেষনের জন্য কতভাবেই না অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি জ্ঞান অর্জন করতে র্সবশ্রেণির মানবকুলকে উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলছেন——“#জ্ঞানীদিগকে_অনুসরণ_কর_কারণ_তাঁহারা_ইহকালের_প্রদীপ_ও_পরকালের_আলোকর্বতিকা।” (সগির)

@”প্রত‍্যেক বস্তুলাভের পথ আছে। বেহেশত্ লাভের পথ জ্ঞানান্বেষন। (সগির) ….

জ্ঞান ব‍্যতীত বুদ্ধি -বিবেক বৃদ্ধি হয় না। ভাবনা বিকশিত হয় না। জ্ঞান ছাড়া র্ধমকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যায় না। তাই জ্ঞানের রশি ধরেই একমাত্র বুদ্ধিমানরাই মহাসত‍্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য র্সবশক্তিমান এক পবিত্র দয়ালু স্রষ্টা সম্পর্কে জ্ঞানের অন্বেষনে র্সবদা নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

মহানবী হলেন ন‍্যায় বিচারের প্রতিষ্ঠাতা।মানবতার ধারক ও বাহক। যিনি র্সবশ্রেষ্ঠ মানুষ,যাঁর র্সবশ্রেষ্ঠ অন্তঃকরন, যার তুলনাবিহীন চরিত্র,যার প্রাণভরা অশ্রু সিক্ত আঁখি। তিনিই হলেন মানুষের সেরা মডেল নবী হজরত মুহাম্মদ (দঃ)। আল্লাহ কুরআনে যতবার তাঁর অনুসরণের কথা বলেছেন সাথে সাথে নবীকে ও অনুসরণ করার কথা বলেছন।

পবিত্র কুরআনে কতগুলো বানী এই সাক্ষ্য বহন করে যে,———–“#তিনিই তাঁর রসুলকে সত্য র্ধমসহ পাঠাইয়াছেন এই উদ্দেশে যে তিনি অপর সমস্ত র্ধমের উপর শ্রেষ্ঠত্ব কায়েম করিবেন যদিও মোশরেকগন ইহাকে না পছন্দ করে।” [সূরাঃ তওবা; ৯: ৩৩]

“#এবং_তোমাকে_বিজ্ঞানময়_মহজ্ঞানীর_সন্নিধান_হইতে_কুরআন_শিক্ষা_দেওয়া_হইয়াছে।” [সৃরাঃ নমল; ২৭:৬]

বিশ্বের করুণাময়, মানবজাতির পথ প্রদর্শন তাঁর সূত্র বিশ্বের প্রগতি -ভাতৃত্ব, বিশ্ব পরিচয়ে অপরিহার্য।#হজরত মুহাম্মদ( দঃ) দীপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করলেন————-“#হে_আমার_উম্মত! আমি যা রেখে যাচ্ছি তা যদি তোমরা শক্ত করে ধরো তবে কিছুতেই তোমাদের পতন হবে না। জান সে গচ্ছিত সম্পদ কি? সেটা হল আল্লাহর কুরআন ও রাসুলের বিধান।” [হাদিস: বিদায়হজ্জ্ব ]

#উত্তম_র্মযাদার_অধিকারী:—

#মহানবী (সা:) বলেন,———-“বিচার দিবসে আল্লাহর কাছে মানুষ অপেক্ষা অন্য কোনো সৃষ্টি অধিক সন্মানের হবে না। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের ক্ষেত্রেও কি এটা প্রযোজ‍্য হবে? অর্থাৎ নিকটবর্তী ফেরেশতাদের চেয়ে ও কি মানুষের র্মযাদা বেশি? মহানবী (সা:) প্রত‍্যুত্তরে বলেন,——“নিকটর্বতী ফেরেশতারাও এক শ্রেণীর মানুষের চেয়ে অধিক র্মযাদাবান হবে না” [বায়হাকি, প্রথম খন্ড,পৃষ্ঠা —১৭৪]

সত্যিই আমরা মানুষরা কত অকৃতজ্ঞ, অপদার্থ। এই মহামুল‍্যবান দামী রত্নঝরা উপহারগুলো মানুষের জন্য নির্ধারিত থেকেও একশ্রেণির দাম্ভীক, স্বৈরাচারীরা এগুলিকে মাড়িয়ে দিয়ে যায়। মহাবিচার দিবসেই প্রতিফলিত হবে,নিজ নিজ র্কমের আপন প্রতিদান। পবিত্র কুরআনুল কারিম অবতীর্ণ করার মধ্য দিয়ে কিয়ামত অবধি সব মানুষের চুড়ান্ত সফলতার পথও বাতলে দিয়েছেন। সুতরাং এই মহাগ্রন্থের বিধি- নিষেধের পূর্ণ পরিপালনের মধ্যে দিয়েই মানবজাতির প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত।

2
আপনার মতামত

avatar
1 Comment threads
1 Thread replies
2 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
2 Comment authors
Rujina BegumFalak Ali Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Falak Ali
Guest
Falak Ali

ভালো লাগল আপু। তথ্যবহুল লেখনী।