শিল্পীর কারুকার্য বিশ্লেষণে

মানুষ কতই না সম্মানিত যে মাথা উঁচু করে চলাফেরা করে। আর এক আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদা করে। কাফির ও মুমিনের জন্য আছে একই নিয়ামত। শরীর নামক জমিনে ৩৬০টি নহর। ব্রেনকে করেছেন চিন্তা ও সিদ্ধান্তের স্থান। হৃদয়কে করেছেন জ্ঞানের উৎস। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হল অন্তরের বাহক।

পশুরা নীচুমুখী হয়ে অপমানিত অবস্থায় চলে। মানুষ পায়ের উপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে চলে।
মানব চরিত্রের মধ্যে চার প্রকার প্রকৃতি পরিলক্ষিত হয়-পশুত্ব, শয়তানী, ফেরেশতা সুলভ এবং মনুষ্যত্ব। যারা কাম, ক্রোধ, মোহ চরিতার্থ করে তারা পশুতুল্য। শয়তানের প্ররোচনায় চলে যারা তারা মানবরূপী শয়তান। যারা ফেরেশতাসুলভ আচরণ করে তাঁরা সফলকাম।
কিন্তু মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে বিভিন্ন ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও রিপুর তাড়না দিয়ে। পরীক্ষার জন্য আছে শয়তানের নানা প্ররোচনা। সমস্ত প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করে স্রষ্টার আদিষ্ট কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করতে সক্ষম হলে মানুষ ফেরেশতার চেয়েও বেশি মর্যাদা লাভ করে। আর এজন্যই তো মানুষ সৃষ্টির সেরা বা আশরাফুল মাখলুকাতে।
এ গুণ অর্জন করতে সক্ষম হওয়ায় একমাত্র পথ হল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তরিকায় জীবন গঠন।
মানুষের মধ্যে পশুসুলভ দুষ্টু গুণগুলো বিভিন্ন প্রকারে বিরাজ করে। মানুষের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে ৩প্রকার স্বভাব পরিলক্ষিত হয়।
যেমন গরু, গাধা, ভেড়া ,বকরী কেবল উদর পূর্তি উপলক্ষে মালিকের জমির খাদ্য খায় আবার অন্যের জমিতেও মুখ দেয়। এমন প্রকৃতির মানুষরা উদরপূর্তির জন্য হালাল হারাম দেখেনা।

২য় প্রকার প্রাণী হল সিংহ বাঘ ইত্যাদি। এরা অন্য প্রাণীর রক্ত পান করে। এমন প্রকৃতির মানুষরা এদের মতই অন্যদের প্রহার সংহার করতে দ্বিধা করে না।

৩য় প্রকার প্রাণী হল বিষাক্ত সর্প শ্রেণী। অকারণে দংশনে ব্যস্ত থাকে। এমন মানুষরা অন্যের দংশন করে, তাতে নিজের কোন লাভ থাকে না।

৪র্থ শ্রেণীর মানুষ, যারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। তারা অন্যের ক্ষতি করে আনন্দ পায়। পশুরা ক্ষতির মধ্যে আনন্দ অনুভূতি পেতে পারে না। এজন্য এরূপ মানুষ পশুর চেয়েও অধম।

মানুষ ইলম অর্জন করে তা ধারণ করে রুহের খোরাক তৈরি করতে পারে, তবে দুনিয়া আখেরাতে আসবে সফলতা। সাহাবীদের জীবন যেমন ছিল তেমন ভাবে নিজেকে তৈরি করে নিতে হবে তবেই সেই আশায় বুক বেধে নিতে পারবে। অনেক অনেক গুপ্ত রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।

যেমন পেরেছিলেন উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। জুমার দিনে মসজিদে খুতবা দানকালে শত শত মাইল দূর থেকে জিহাদের ময়দানে যুদ্ধরত মুসলিম বাহিনীর সেনাপতিকে”ইয়া সারিয়া! আল জাবাল।” বলে সাবধান বাণী প্রেরণ করেছিলেন এবং সেনাপতি হুবহু শুনতে পেয়েছিলেন। তারে বা বেতারে খবর প্রেরণের কোন ব্যবস্থা সেযুগে ছিল না। ছিল রুহের খোরাক।
আহা! কত্তো বড় কারিগর।

কত বড় কারিগর
সৃজন করিলে আমার,
তোমারে পেয়েছি দেখা
আমি নই যে একা।

তুমি হে মোর সাথী
প্রাণ উঠিছে যে মাতি,
বিশ্বচরাচর এই নিঝুমে
তোমারে পাই জাগরণ ঘুমে।

দাও ওগো অমর করি
নিশিদিন তোমার শরি,
তুমি আছো আছে
আরো নিকট কাছে।

আরশের আরশ ভূমি
তুমি ওগো তুমি,
জগৎ মরণ বাঁচাও
সারা মাখলুক নাচাও।

জানি জানি তোমার বার্তা
অনেক অনেক গোপন কথা,
নীরব নিভৃতের স্রোতে
সে সুধা পারেনি মরতে।

যে সুধা মিটায় অবসাদ
তোমার গুণে করি আবাদ,
ওগো কারিগর ছিল যে সাধ
তুমি অসীম! অপার!অগাধ!

1
আপনার মতামত

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
1 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
1 Comment authors
Falak Ali Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Falak Ali
Guest
Falak Ali

দারুন লিখেছেন।