মুক্তি পেতে মুক্তপথ

 

 

নারী নির্যাতনের কাহিনী সুদীর্ঘকাল ধরে অবজ্ঞার কলঙ্কিত ইতিহাস আমরা শুনে থাকি।অভিশপ্ত নারী জাতি যুগ যুগ ধরেই ছিল অবহেলিত ও ও লাঞ্ছিত, এবং আজকের সভ্য সমাজেও অগনিত নারী নির্দয় ছলচাতুরি পাষাণের স্বেচ্ছাচারী শাসকের শিকার। তার একটাই কারণ এই স্বার্থান্বেষীরা ইসলামী আইনকে উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছার স্রোতে মনকে তার কূ-প্রবৃত্তির গোলাম করে রাখে।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী সমাজ নারীর অবস্থান যখন ছিল অমানবিক এবং অতি করুণ, তখন থেকেই ইসলাম নারীর অধিকার ও র্মযাদা উন্নয়নের জন্য নজীরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইসলাম জন্মগত ভাবে মানুষকে এ র্মযাদা দিয়েছে। #মহান আল্লাহ্ বলেন —-“আর নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানদেরকে সন্মানিত করেছি। (সুরা-আল-ইসরা /বণী ইসরাইল -70)। বস্তুত মানুষ সম্পর্কে ইসলামের এ ঘোষণা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে শাশ্বত ও চিরন্তন।

এই পৃথিবীতে নারী ও পুরুষ অখণ্ড মানব সমাজের দুটি অপরিহার্য অঙ্গ। পুরুষ মানব সমাজের একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করলে আরেকটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করে নারী।

ইসলামে নারী নির্যাতনের স্থান নেই। নারীদের র্মযাদা প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) র্সবদা চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। বিদায় হজের ভাষনে রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন–“#হে_মানুষ।নারীদের_সম্পকে_আমি_তোমাদের_সর্তক_করে_দিচিছ। তাদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করো না। তাদের উপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে,তেমনি তোমাদের উপর তাদেরও অধিকার রয়েছে। সুতরাং তাদের কল‍্যাণের দিকে সবসময় খেয়াল রেখো।

মহানবী ( সাঃ) বলেছেন —-“#স্ত্রী_যদি_পাঁচ_ওয়াক্ত_নামাজ_পড়ে_রমযান_মাসে_রোজা_রাখে_নিজ_লজ্জাস্থল_রক্ষা_করে_এবং_স্বামীর আনুগত্য করে তবে তাকে বলা হবে,–“বেহেশতের যে দরজা তোমার ইচছা সেখান দিয়ে প্রবেশ কর।”

ইসলাম স্বামীর আনুগত্যের যে বিধান করেছে তার অর্থ অন্ধ অনুসরণ নয়,যদি সে বোঝে যে,স্বামী অধিকার নিয়ে স্বৈরাচারী করে। এটা স্ত্রীর ব‍্যক্তিত্ব নষ্ট করা বা র্মযাদা ক্ষীণ করার জন‍্য নয়।এটাও উদ্দ‍েশ‍্য নয় যে,
‍বৈবাহিক জীবন লড়াই একগুঁয়েমি ও কঠিন মতামতের ক্ষেত্রে পরিণত হবে। যা বিধান করা হয়েছে তা হল–স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে সমঝোতা ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করবে।উভয়ে একে অপরের ব‍্যক্তিত্বের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করবে এবং যৌথ দায়িত্বের পরিবেষ্টনের মধ্যে দায়িত্ব পালনে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করবে।

কিন্তু বাস্তব বড় কঠিন। কখনো কখনো বাস্তবের নিদারুণ চিএ এত মহামুল‍্যবান র্মযাদার আইনকে পিষে দিয়ে যায় এভাবে —-

#নাসীমা সংসারের সব কাজ সেরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে একটু বেশি সময় নিয়ে পড়ায় স্বামী সিরাজের ঘোর আপত্তি।সিরাজ হাইস্কুলের শিক্ষক,কোটিপতি হওয়ার প্রবল বাসনা।সিরাজ নামাজের ধার ধারে না।স্ত্রী নাসীমাকে চাপ সৃষ্টি করে বাপের বাড়ি থেকে সম্পত্তি আনার।তাদের 23বছরের সংসার,এখনো নাসীমার উপর র্টচার চলে।সংসারে নিত‍্যপ্রয়োজনীয় জিনিস টাও ঠিক মত আনে না।অসুস্থ হলে চিকিৎসা করে না।নাসীমার দুই ছেলের জন্মের পরপর বাপের বাড়িতেই মাসের পর মাস কাটিয়েছে।নাসীমা আব্বুও একসময় স্কুলের টিচার ছিলেন।অনেকদিন আগেই রিটায়ার্ড করে হজও করেছেন। এখন আশির উপর বয়সের ভারাক্রান্তে ও মেয়ের দুশ্চিন্তায় লোকটি অর্ধমরা হার্টের প‍েসেন্ট। সিরাজ শশুরকে যখন তখন ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।ছেলেরা প্রতিবাদ করলে মারতে যায় অথবা কলেজ পড়াশুনার খরচা চালাবে না বলে ভয় দেখায়।এতকিছু অশান্তির পরও নাসীমার আব্বু তাকে কিছু জমি দিয়েছে উইল করে।তাতে সিরাজ সন্তুষ্ট নয়, আরো চাই আরো ভিটে,মাটি এমনকি বসত বাড়ির অংশ।ওদিকে সিরাজ তার রাজবাড়িটিতে প্রায় 20 হাজার টাকার মত ভাড়া খাটায়। এরকম অগনিত ভন্ডদের জীবনকাহিনী নিয়ে আমি করুণ উপন‍্যাস তৈরী করতে পারতাম। তাতে পাঠকদের ভারাক্রান্তই করা ছাড়া আর কিছু দেওয়ার থাকে না।অনেক লেখক,উপন‍্যাসিক অনেক নিরুপমার কাহিনী লিখে গেছেন।আজও সমাজের ভদ্র মুখোসধারীরা বদলায়নি আর বদলাবেও না।কেননা যতক্ষণ মুক্ত পথের সোজা আইনকে মানুষ হৃদয়ে গেঁথে না নিতে পারবে ততক্ষণ কত সহজ সরল নাসীমা,নিরুপমা তিলে তিলে প্রাণ বির্সজন দিতে হয় এইরকম কত ভন্ড সিরাজের হাতে।এ শুধু একটা জলজ‍্যান্ত দৃষ্টান্ত মাত্র। এরাই ইসলামের মহান আইনকে বারবারই র্খব করে।তার একটাই কারণ ইসলাম থেকে দূরে থাকার জন‍্যই এ এক বড় নীরব দগ্ধভূত চারদেওয়ালে ঢাকা সবার দৃষ্টি গোচরের আড়ালের জঠিল সমস্যা।ইসলামের প্রদীপ জ্বালানো বাড়ির প্রতিটা সদস‍্য এর দায়িত্বে থাকে।শুধু একজন জ্বালালে সমস্যা মেটে না। কেননা একেই ঘরে থেকে কেউ পার্থিব জীবনের রঙিন স্বপ্ন মেটাতে সদাব‍্যস্ত আর অন‍্যজন মহান আল্লাহ্ কে নিয়ে জ্ঞানের অন্বেষণ করা,অনেক বাধাবিঘ্নের মধ্যে আমল করা কতটা দূর্বোধ তা একমাত্র মহান রাব্বুল আল-আমীন এ জানেন।

এই দুর্নীতিদের মাথায় কুঠারাঘাত করে আমাদের দয়ার নবী অর্থাৎ বিশ্ব নবী #হযরত_ মুহাম্মদ (দঃ) র্সব প্রথম নারীকে দিলেন র্মযাদা ও স্ব-সন্মানের মুক্তি।নারীদের প্রতি সদয় হতে,তাদের প্রতি প্রেম নিবেদন করতে তিনি কত সুন্দর উপদেশই না দিয়েছেন।তিনি বলেছেন —–“#যখন_তুমি_আহার_কর_তাহাকে_আহার_করিতে_দিবে_এবং_যখন_বস্ত্র_পরিধান_কর_তখন_তাহাকে_বস্ত্র_পরিধান_করিতে_দিবে।তাহার মুখের উপর আঘাত করিবে না বা তাহাকে গালি দিবে না বা বিরক্ত হইয়া তাহাকে একলা ঘরে ত‍্যাগ করিবে না।”——(আবু দাউদ )

“#তোমাদের_স্ত্রীদের_উপর_তোমাদের_যেরূপ_অধিকার_তোমাদের_উপরও_তাহাদের_তদ্রুপ_অধিকার_আছে_অতএব_তাহাদের_প্রতি ন‍্যায‍্য ও সদ য় ব‍্যবহার প্রদর্শন কর।”————(তিরমিজি)

ইসলামী বিধান হল–নারীর প্রতি দয়ালু,তার অধিকার রক্ষাকারী,তার র্মযাদার প্রহরী।নারীদের রক্ষনাবেক্ষণকারী হিসাবে অতীতেও ছিল এখনো আছে।কিছু ভন্ডরা এই নীতিকে তোয়াক্কা না করে নিজের মনগড়া নীতি জাহির করে।ইসলামী বিধান হল মানবতায় পরিপূর্ণ কারী এবং অধিকার ও প্রয়োজনের তত্ত্বাবধায়ক।এই অধিকারে মানবতার সব অধিকারই প্রাধান্য পেয়েছে।শুধু অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার অভাব। #আল্লাহ্তায়ালা বলেন——-

“#আর_পুরুষদের_যেমন_স্ত্রীদের_উপর_অধিকার_রয়েছে_তেমনি ভাবে স্ত্রীদের ও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী।আর নারীদের উপর পুরুষ দের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।”———-[ সুরাহ্ বাকারাহ–22৮]

#ইসলামিক স্কলারদের ভাষায় বলা যায় –এটা শক্তি প্রয়োগের শ্রেষ্টত্ব বা ক্ষমতা,নিয়ন্ত্রণ ও স্বৈরাচারের শ্রেষ্ঠত্ব নয়,বরং এ হচ্ছে বিবাহ ও তার এক‍্যমতের যুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত সাংসারিক নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব।

#আল্লাহ্ বলেন—“#আর_তাঁর_ এক নিদর্শন এই যে,তিনি তোমাদের জন‍্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন,যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাকতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।”—-“[সুরা রুম-২১]

#ডঃ জাকির নায়েক বলেছেন– ইসলামে বিবাহের লক্ষ‍্য হল স্বামী -স্ত্রীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জন এবং স্বস্তি,শান্তি ও স্থিতিশীল অবস্থা নিশ্চিত করা।এই স্নেহ ও দয়া দ্বারা মজবুত ভিত্তির উপর বৈবাহিক প্রাসাদ তৈরি করা হয় এবং যেখান থেকে প্রদীপের আলো জ্বালানো হয়।যেখানে স্বামী -স্ত্রী জীবনযাপন ও জীবনের বিরাট দায়িত্ব পালনে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে,সুখে দুঃখে জীবন যাত্রায় এমনভাবে কাটাবে যেখানে স্নেহ,মমতা,উদারতা,সৎকাজ,ক্ষমা,সদয়ে শান্তি বয়ে এনে জীবনকে এক স্বচ্ছ পবিত্র ধারাবাহিকতা গেঁথে দেবে। আর এই হবে দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির দিশারী।

আবার #আল্লাহ্ বলেন—–“#হে_ঈমানদারগন_তোমরা_নিজেদেরকে_ও_তোমাদের_পরিবার_পরিজনকে_সেই_অগ্নি_থেকে_বাঁচাও_যার_ইন্ধন_হবে_মানুষ_ও_ পাথর।”——(তাহরিমঃ৬ )।

#মহানবি (সাঃ) বলেছেন———“#তোমদের_সবাই_রক্ষক_এবং_তোমাদের প্রত‍্যেককে তার দায়িত্ব সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হবে।”

কাজেই সকল মুসলিম ভাই ও বোনেরা আর বিলম্ব না করে জেগে উঠুন, ইসলামের এই মহা আইনকে সাদরে গ্রহন করুন।এই মুক্তির আইনকে হৃদয়ে গেঁথে নিয়ে দিকে দিকে ছড়িয়ে দিন।কেউ কি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন,যে আগামী দিনে আপনার বোন ও মাসুম মেয়েরা –নাসীমার মত ভাগ‍্য কালো আধারে মেঘ ছেয়ে ঘনাবে না।আপনারাই এরকম হাজার সিরাজের পাষাণ প্রবৃত্তিকে কবর দিয়ে, ইসলামের আলোকে নতুন নতুন প্রাঞ্জল মহান সিরাজের জন্ম দিতে পারেন। মহান আল্লাহ্ ও মহানবী( সাঃ)–পথে একই রশি ধরে যে কোনো জঠিল সমস্যাকে মোকাবিলা করাই সহজ ও মহাপুরস্কার হবে একমাত্র অগ্রণীভূমিকা বিশ্বাসীদের।

 

আপনার মতামত

avatar
  Subscribe  
Notify of