পরিবারের শান্তি

 

সেই ট্রাডিশন চলে আসছে। মেয়েরা তাদের স্বামীর উপর কথা বলতে পারবে না। পারবে না সংসারে আর কারও উপর কথা বলতে। বিয়ের পর মেয়েরা আপন প্রয়োজনগুলো বিলিয়ে দিতে
পারলে তার জান্নাতের রাস্তা প্রশস্ত হয়। একটা ভূয়া হাদীস দ্বীন দরদী মহিলাদের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসছে-“স্বামীর পায়ের
নীচে স্ত্রীর জান্নাত।” পুরুষতান্ত্রিক সমাজ গড়ার এক বিকৃত পরিকল্পনা। এখানে শুধু পুরুষরা এক পক্ষ দায়ী নয়। দ্বীনদারি বলে পরিচিত মহিলাদের বলতে শুনেছি -“স্বামীর গায়ের ঘাম পা
থেকে মাথা পর্যন্ত জিভ দিয়ে চেটে পরিস্কার করলেও স্বামীর হক
আদায় করে শেষ করা যাবে না।” এ সবই বাতিল।
বরং সহি হাদিসে আছে, “সেই উত্তম পুরুষ যে তার স্ত্রীর বিবেচনায় উত্তম।”
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন” তারা হচ্ছে তোমাদের পোশাক আর তোমরা হচ্ছ তাদের পোশাক।”
(সূরা বাকারা -১৮৭)
এজীবন্ত কুরআন আর হাদীসের বাক‍্যগুলো জীবনে প্রতিষ্ঠিত করেই তো সুখী জীবন গড়া যাবে। সংসারে বৌমা মানেই তাকে
স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ী-দেবর-ননদ সকলের মান‍্য করে চলা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা।আর নিজের জন্য এক আকাশ বোবা কান্না জমিয়ে রাখা। সংসারে ভুল হলে উঠতে বসতে
কথার আঘাতে পাঁজরগুলো জিরজিরে করা।

সেদিন আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে আয়িশা বলল, আপু এই কাঠভাঙা রোদ্দুরে প্রতিদিন অফিস থেকে
ফিরে খাবার টেবিলে আমার জন্য ভাত ছাড়া অবশিষ্টাংশ কিছুই
থাকে না। চোখে এক নদী জল নিয়ে লবন মেখে ভাতগুলো গিলে
নেয়। অথচ সকালে নিজ হাতে কতো সুন্দর ব‍্যঞ্জনে ভরিয়ে যায় কিচেন রুম। সকলেই আমার রান্নার প্রশংসাতে পঞ্চমুখ। যার হাতের রান্নার় প্রশংসায় পঞ্চমুখ তার পাতের খোঁজ কেউ নেয় না। দিনের প্রথমে রান্না সেরে অফিস। তারপর বাড়ি ফিরে ক্লান্ত দেহে বিছানায় লুটিয়ে পড়ি। মামুন বাড়ি ফিরলে তার খাওয়ানো পড়ানো শেষ করে সংসারের দ্বায়িত্বের বোঝা কাঁধে নিয়ে আবার পথ চলা। কন্টকাকীর্ণ এ পথ। যে পথে ভালোবাসার নেই কোনো চিহ্ন। কেবল ধূ ধূ প্রান্তর। ধোঁয়াশা ভরা জীবন। নেই কোনো সবুজ সংকেত। কোনো দিন মামুনের আব্বু আমার দিকে ভালোবাসার চাহনি চায়নি। মাস শেষে স‍্যালারির সবটাই লুফে নেয়। হাতে গুনে পথ খরচটাই মাত্র দেয়। আর কথায় কথায় অশ্রাব্য কথায় দিনগুলো ঝাপসা করে দেয়। কোনো কারণে ঘরে ফিরতে দেরি হলে অন‍্য পুরুষের নামে কটাক্ষের বাণী ছুড়তে থাকে। হৃদয়ের কোনে বেষদনার তীর বিধে ছটফট করি। সব মিলিয়ে এক অতিষ্ঠ জীবনের কালো ঘন ছায়া আমার চারপাশে বিরাজ করছে। সেদিন আমার হাতটা মুষড়ে দিল। আজও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি। আবার সময় হলে রাতের প্রয়োজনীয় কাজ মিটিয়ে নেয়।
হাদীসে বলা হয়েছে-“এটা খুবই লজ্জার ব্যাপার যে, কোনো ব‍্যক্তি
দিনে স্ত্রীকে মারধর করে এবং রাতে তার সাথে শোয়”
(বুখারী, মুসলিম)

বলো আপু আজ আমি চলে গেলে সবাই আমার দিকে আঙুল
তুলবে। লজ্জা-ভয় আমাকে তাড়া করে। পিছনে তাকানোর সাহস
পাই না। দিন দিন ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছি।
আয়িশার কথাগুলো শুনে পাথর হয়ে গেলাম। বললাম “দুনিয়াটা
মূমিনের জন্য কারাগার স্বরূপ।” আরও বললাম- “সালাত পড়ো আর সবর কর”
চলে গেলাম ওদের পরিবারের সদস্যদের কাছে। হিকমতের সাথে বুঝালাম ওই বাড়ির বউ এর অধিকার ও কর্তব্যের ধারাবাহিক লিস্ট। ইসলাম একজন নারীকে কতটা মর্যাদা দিয়েছে আর তার পরিবারে তার গুরুত্ব কতখানি ইত‍্যাদি।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার আমাদের কলুষমুক্ত ইসলামী
সমাজ গড়ার তাওফিক দান করুন।

 

আপনার মতামত

avatar
  Subscribe  
Notify of