সুখের সংসার গড়ি

 

সংসারে সুখ-শান্তি নির্ভর করে স্বামী-স্ত্রী র মধ্যে বোঝাপড়ায়।
ইসলামী চেতনার বাস্তবায়নে। সংসারের সমস্ত শান্তি যেন নারীর
মুঠোর মধ্যে। পান থেকে চুন খসলেই দোষটা তার উপর বর্তায়।
সে একারনেই সবসময়ই সন্ত্রস্ত থাকে। কখন যে কোন দোষের শিকার হয়ে পড়ে এই ভাবনায়।
রাসূল (সঃ)বলেন-“পুরুষ তার স্ত্রী পরিজনের পরিচালক এবং এ দায়িত্ব পালনের ব‍্যাপারে তাকে আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে
হবে।”-(বুখারী)
ইসলাম পুরুষকে এই যোগ‍্যতা দান করেছে। তবে ভারসাম্য বজায়
রেখে দক্ষতার সাথে ক্ষমতার প্রয়োগ করে সুখি সংসার গড়া যায়।

সাত সকালে রাবেয়া এসে বললো, “চলো আপু আমাদের বাড়িতে।
মণির আব্বুকে একটু বোঝাও। আজ আমার জন‍্য কেঁদে
পাগল। বি হেপাটাইটিসে আমি আক্রান্ত। উনার ধারণা আমি বাঁচবো না।”
হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ। এতো ভেঙে পড়ার কী আছে?
রাবেয়া বলল আসলে উনি এ যাবৎকাল আমার প্রতি কোনো
কেয়ার নেয়নি। আব্বু-আম্মু, ভাইপো-ভাইঝি আর সকলের প্রতি
সমান গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন কেবল আমি ছাড়া। আজ আমার
অবস্থা করুন। বিবেকের দংশনে উনি অস্থির।
সংসারে সকলের খাওয়ানোর পর আমার ভাগে কিছুই জুটতনা।
কাকভোর থেকে হাড়ভাঙা খাটুনির পর অবশেষে হাঁড়ি মোছার
ভাগটা আমার। বেলাশেষে অবশ দেহটাকে বিছানায় পাতিয়ে
আঁচলের মুড়োয় চোখ মুছতে মুছতে কখন যে তন্দ্রা এসে যেত
জানতাম না। আর রাতের বিছানা? সে এক করুণ কাহিনী।
যৌবনের উদ‍্যমতাকে চেপে রেখে চাপা কান্নায় কতনিশি যে যাপন
করেছি তার কোনো হিসাব নেই। অথচ অভিভাবকদের কঠিন
রেস্ট্রিকশন মানতে কারণ ছাড়াই ফরয গোসল করতে হয়েছে। বোবা কান্নায় কত দিন পার হয়ে গেছে। স্বামী-স্ত্রীর গোপন কথা
অন‍্যকে বলা পাপ। এজন্য সবই গোপনীয়তা বজায় রেখেছি। যাক
সময় পার হয়ে গেছে। সবরের সাথে চলেছি। বাকি সময়টা আমি
যেন ঈমানের দাবী নিয়ে চলতে পারি এই কামনা করি। আর দোয়া
করি আমার মতো কষ্টে যেন কেউ দিন যাপন না করে।

 

আপনার মতামত

avatar
  Subscribe  
Notify of