ভারতবর্ষের নারী হওয়ার গর্ব আজ রক্তাক্ত

ভারতবর্ষের নারী হওয়ার গর্ব আজ রক্তাক্ত

ভারতে দু’হাজারেরও বেশি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। বিশ্বের প্রতিটি প্রধান ধর্মাবলম্বী মানুষ ভারতে বাস করেন। কোনো ধর্মমতে (হিন্দু) নারীশক্তির আরাধনা করা হয়, আবার কোথাও (ইসলামে) নারীর (মায়ের) পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত বলা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে সেসব নির্দেশ, অনুশাসন দেওয়া আছে, সেগুলোর সাথে বাস্তবে ধর্মপালনের মধ্যে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যায়। তাই আজ তাই নারী জাতিকে এতো‌ দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে। নারীরা কিভাবে সারা ভারতে লাঞ্ছিত, অপমানিত, নিপীড়িত, সর্বোপরি ধর্ষিত হচ্ছে, সে দৃশ্য সবার দেখা। যেখানে ৩ মাসের শিশু থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বৃদ্ধাও বিকৃত কামের খোরাক হচ্ছে।

একবার স্বামী বিবেকানন্দকে এক ইংরেজ জিজ্ঞাসা করেছিলেন,”তোমাদের নারীরা হ্যান্ডশেক করেনা কেন?”
বিবেকানন্দ বলেছিলেন,”আপনাদের রানী কি হ্যান্ডশেক করেন?”
ইংরেজ ভদ্রলোক উত্তর দেন,”না”।বিবেকানন্দ বলেন “আমাদের সমাজে প্রতিটি নারী এক একজন রানী। এজন্য তারা হ্যান্ডশেক করেনা।”
এই দেশের মহাপুরুষগণ নারীদের যেভাবে সম্মানিত করেছেন, পৃথিবীর অন্য কোথাও নারীদের সেভাবে সম্মানিত করা হয়েছে বলে মনে হয়না।কিন্তু আজ সে গৌরব ম্লান। ভারতের শিক্ষা-সংস্কৃতি সব হারিয়ে যাচ্ছে।

যতদিন অপরাধীর (ধর্ষকের) জাত, ধর্ম, সে কোন্ রাজনৈতিক পার্টির লোক ইত্যাদি বিচার করা হবে, ততদিন ভিক্টিম নিরপেক্ষ ও সুবিচার পাবে না। হয় অপরাধী এইসবের ফাঁক ফোকর দিয়ে গলে বেরিয়ে যায়, নতুবা শাস্তি যথোপযুক্ত হয় না। তাই সে কোনো ধর্মের, কোনো জাতের এগুলো বিস্মৃত হয়ে আর অপরাধটাকেই মানদণ্ড করা উচিত। দেশের নেতা, মন্ত্রী, আমলারা এই শয়তানের সাহস জোগায় এবং এদের উপযুক্ত শাস্তি পেতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা হিন্দু-মুসলিম, মন্দির-মসজিদ ক্ষমতার রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকে। প্রশাসন যেখানে নির্বিকার ভূমিকা পালন করে। সেই দেশে নির্ভয়া, আসিফা থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের সংস্কৃতি রাই, মধ্যপ্রদেশের দিব্যা কতটা সুবিচার পেল বা পাবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়!

আমাদের দেশের ধর্ষকের সংখ্যা এতো বেশি যে, সব ধর্ষককে যদি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তবে পুরুষ-সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যাবে। কিন্তু এখানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তাকে শাস্তি দেওয়ার বদলে তার সমর্থনে মিছিল বের করা হয়। দেশের রাজনীতি এমনই নোংরা পর্যায়ে চলে গেছে যে জাতি-ধর্ম নিয়ে খেলা করে বিদ্বেষের বিষ ছড়িয়ে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে।

নারীদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য নাকি দেশে তালাক প্রথা তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নারীর, নাবালিকা-সাবালিকা-নির্বিশেষে নির্যাতিতা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় সারা ভারতে চারজন করে নারী ধর্ষণের শিকার হয়। সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ভারত শুধু নারী নির্যাতনেই নয়, নারী পাচার, যৌনদাসী করে রাখার ক্ষেত্রেও এগিয়ে ভারত। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নারীদের ওপর অত্যাচারের পরিমাণ ৮৩ শতাংশ বেড়েছে।

আজ পরের বাড়ির মেয়ে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, অন্যের কোল শুন্য হতে দেখে আমরা নির্বিকার থাকতে পারি না। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের উচিত ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠিন আইন ও শাস্তির দাবী করা। নিজেদের মেয়ে, বোন, দিদি, স্ত্রীকে সুরক্ষিত রাখতে একটা নারীর মাতা-পিতা, স্বামী, দাদা, ভাই, ছেলে হিসেবে, এমনকি স্বয়ং নারীকে প্রতিবাদে সরব হতে হবে। আর না হলে নারীর পিতা,মাতা, স্বামী, ভাই সমেত নারীকে সর্বদা ভয়ে ভীত হয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। 

–  সুরাইয়া খাতুন

3
আপনার মতামত

avatar
3 Comment threads
0 Thread replies
8 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
3 Comment authors
LarryMearpRichardPripsMahia sabnam Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Mahia sabnam
Guest
Mahia sabnam

ভালো লিখেছেন

RichardPrips
Guest
RichardPrips

If you might be seeking some of the most adaptable, versatile low-budget essay creating support British isles that puts you in charge of the technique.

http://www.privatebanking.com/blog/2019/08/17/retirement-planning-7-essential-things-to-consider/

LarryMearp
Guest
LarryMearp

low-cost solid essay producing assistance, an individual do my essay for me, compose my essay melbourne, essay about encouraging another person in must have, guidance publish essay, lower priced.